AB Live News
রেলযাত্রায় খাবারের সংকট? যুদ্ধের জেরে এলপিজি-টানে বিপাকে আইআরসিটিসি
ইউক্রেন-রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের রেলযাত্রীদের পাতে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) আকাশছোঁয়া দাম এবং সরবরাহে ঘাটতির জেরে এবার দূরপাল্লার ট্রেনের ক্যাটারিং পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আইআরসিটিসি সূত্রে ইঙ্গিত, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনে লম্বা সফরের ট্রেনগুলোতে প্যান্ট্রি কারের গরম খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখা বা সীমিত করা হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলপিজি আমদানিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগানে টান পড়ায় বড় বড় বেস কিচেনগুলো সমস্যার মুখে পড়েছে। দিল্লি, মুম্বই এবং কলকাতার মতো বড় জংশন থেকে যেসব দূরপাল্লার ট্রেন ছাড়ে, সেই ট্রেনগুলোর প্যান্ট্রি কারে খাবার তৈরির জন্য যে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের প্রয়োজন হয়, তার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অনেক স্টেশনেই ক্যাটারিং ঠিকাদাররা সময়মতো পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাচ্ছেন না।
রেল সূত্রের খবর, পরিস্থিতি সামাল দিতে আইআরসিটিসি বেশ কিছু বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। যদি গ্যাসের জোগানে দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি থাকে, তবে:
ট্রেনে রান্না করা খাবারের বদলে ‘রেডি-টু-ইট’ (Ready-to-eat) বা প্যাকেটজাত শুকনো খাবার দেওয়া হতে পারে।
রাজধানী বা দুরন্তের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনগুলোতেও রান্নার পরিমাণ কমিয়ে ঠান্ডা জলখাবার বা স্যান্ডউইচের ওপর জোর দেওয়া হতে পারে।
যেসব স্টেশনে ই-ক্যাটারিং সুবিধা আছে, সেখানে বাইরের রেস্তোরাঁ থেকে খাবার অর্ডার করতে যাত্রীদের উৎসাহিত করা হতে পারে।
সাধারণত ১০-১২ ঘণ্টার বেশি সফরের ক্ষেত্রে যাত্রীরা রেলের খাবারের ওপরই ভরসা করেন। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক এবং শিশুদের ক্ষেত্রে বাইরের শুকনো খাবার বা বাইরের হোটেলের খাবার কতটা স্বাস্থ্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়া গামী একাধিক ট্রেনের যাত্রীদের কথায়, “ট্রেনের টিকিটের সঙ্গেই যদি খাবারের টাকা নেওয়া হয় এবং শেষ মুহূর্তে খাবার না মেলে, তবে সেটা চরম দুর্ভোগের কারণ হবে।”
আইআরসিটিসি-র এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, “আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। তেলের সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলে সিলিন্ডারের জোগান স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে যে জোগান সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এড়ানো কঠিন।” আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলেও ট্রেন সফরে খাবার নিয়ে অনিশ্চয়তা যে থাকছেই, তা বলাই বাহুল্য।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

