AB Live News
মুর্শিদাবাদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ‘খেলনা’ ভেবে কৌটো নিয়ে খেলতে গিয়ে রক্তাক্ত ২ নাবালক
মুর্শিদাবাদ: মুহূর্তের অসতর্কতা নাকি বারুদের স্তূপে শৈশব? বুধবার রাতে মুর্শিদাবাদের শান্ত জনপদে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা দুর্ঘটনা। নারকেল তেলের কৌটো আর দেশলাই কাঠি নিয়ে খেলতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শিকার হলো দুই নাবালক। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, দুই শিশুর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গিয়েছে। বর্তমানে তারা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ান অনুযায়ী, ঘড়িতে তখন রাত আটটা পার হয়েছে। গ্রামের একটি ফাঁকা জায়গায় বসে খেলা করছিল দুই নাবালক। অন্ধকার থাকায় ঠিক কী নিয়ে তারা খেলছিল, তা শুরুতে কারও নজরে আসেনি। স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “আমরা দেখেছিলাম বাচ্চাগুলো একটা নারকেল তেলের প্লাস্টিকের কৌটো আর দেশলাই নিয়ে বসে আছে। ভেবেছিলাম হয়তো কিছু পোড়াচ্ছে। কিন্তু দু-তিন মিনিটের মধ্যেই হঠাৎ প্রচণ্ড আওয়াজে আমাদের কান তালা লেগে গেল।”
বিস্ফোরণের শব্দ শুনে গ্রামবাসীরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন চারিদিকে বারুদের গন্ধ। দেখা যায়, দুই শিশু রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গোঙাচ্ছে। তাদের হাতের আঙুল এবং মুখের একাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান, ওই তেলের কৌটোর ভেতরে শক্তিশালী ‘সকেট বোমা’ লুকানো ছিল, যা সাধারণ চোখে ধরা পড়ার উপায় ছিল না।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা জানান, বিস্ফোরণের গভীরতা বেশি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। এরপরই তাদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, “দুই শিশুরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিস্ফোরণের স্প্লিন্টার তাদের শরীরের গভীরে আঘাত করেছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।”
খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকায় পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের তলব করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, জনবহুল এলাকার আশেপাশে এই মরণফাঁদ এল কীভাবে?
পরিত্যক্ত কৌটোয় বোমা ভরে রেখেছিল কারা? এলাকাটি কি কোনও দুষ্কৃতী চক্রের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল?
পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং ওই কৌটোটি ঠিক কোথা থেকে এল, তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ (যদি থাকে) এবং স্থানীয়দের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে।
মনে রাখবেন: শিশুদের রক্ষায় এখন যা জরুরি
মুর্শিদাবাদের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, পরিত্যক্ত বস্তু শিশুদের কাছে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন– বাড়ির আশেপাশে কোনও পরিত্যক্ত ব্যাগ, কৌটো বা বল জাতীয় বস্তু পড়ে থাকতে দেখলে শিশুদের দূরে রাখা।
সন্দেহভাজন কোনও বস্তু নজরে এলে নিজে না ছুঁয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানো।
অপরিচিত কেউ কিছু দিলে তা না নেওয়ার শিক্ষা দেওয়া।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

