AB Live News
মধ্যপ্রাচ্যে রুশ-ইরান অক্ষ: বিপাকে আমেরিকা

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কি তবে ছায়াযুদ্ধের আড়ালে সরাসরি সংঘাতে জড়াচ্ছে মস্কো? মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক রিপোর্টে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির নিখুঁত অবস্থান এবং ড্রোনের বিধ্বংসী রণকৌশল শিখিয়ে সাহায্য করছে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ। এই নয়া সমীকরণ লোহিত সাগর থেকে পারস্য উপসাগর— সর্বত্র মার্কিন আধিপত্যের সামনে বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, রাশিয়ার অত্যাধুনিক নজরদারি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক থেকে পাওয়া হাই-রেজোলিউশন ছবি সরাসরি তেহরানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, রণতরী এবং গোপন সামরিক ঘাঁটির গতিবিধি এখন ইরানের নখদর্পণে। গত রবিবার কুয়েতে মার্কিন অস্থায়ী ঘাঁটিতে যে ড্রোন হামলায় ছয় সেনার মৃত্যু হয়েছে, তার পিছনে রুশ গোয়েন্দা তথ্যের ভূমিকা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
শুধু তথ্য নয়, ড্রোন যুদ্ধেও ইরানকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধে সফলভাবে ব্যবহৃত ‘শাহেদ’ ড্রোনের বিশেষ কৌশল এখন মধ্যপ্রাচ্যে প্রয়োগ করছে ইরান। গোয়েন্দাদের দাবি:
ঝাঁক বেঁধে হামলা (Swarm Attack): আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে একসঙ্গে অসংখ্য ড্রোন পাঠানো।
গতিপথ পরিবর্তন: মাঝ আকাশে ড্রোনের দিক পরিবর্তন করে রাডারকে ফাঁকি দেওয়া।
রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি এই ড্রোনগুলি এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখছে।
রিপোর্টে চিনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বেজিং ইরানকে আর্থিক সহায়তা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তি দিলেও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে নারাজ। এর প্রধান কারণ ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলে চিনের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে, তাই তারা চাইছে যুদ্ধ দ্রুত থামুক।
এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্ট সব জানেন। মার্কিন স্বার্থে আঘাত লাগলে উপযুক্ত ও কড়া জবাব দেওয়া হবে।” বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে সেন্টকম প্রায় ৫০ হাজার সেনা এবং ২০০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-ইরান-চিন এই ত্রিভুজ সমীকরণ যদি আরও মজবুত হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুন কেবল একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বরাজনীতিতে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

