AB Live News
উদ্ধার ১৭ কোটি টাকার ব্রাউনসুগার, মেশানো হত বেবি ফুডে

আইনের চোখ এড়িয়ে স্কুল ব্যাগে করে দেদার পাচার হচ্ছে মাদকদ্রব্য। শুনতে অবাক লাগছে তাই তো! মালদহ জেলায় খুদে ছেলেমেয়েদের হাত ধরেই তৈরি হয়েছে এমন বিরাট মাদকচক্র। সেখানে কার্যত শিল্পের আকার নিয়েছে মাদক ব্যবসা।
সম্প্রতি ইংরেজবাজার এলাকার কুমারপুর এলাকাতে তল্লাশি চালিয়ে একটি কারখানা থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১৭ কোটি টাকার ব্রাউন সুগার। পুলিশের দাবি, উত্তর-পূর্বের রাজ্য থেকে মালদহে সরবরাহ করা হয় মাদক তৈরির কাঁচামাল। যা দিয়ে তৈরি হয় এই নানাবিধ মাদক সামগ্রী। কুমারপুরের মতোই গুপ্ত কারখানায় মাদক তৈরির পর তা সরাসরি চলে যায় পূর্ব ভারতে। এই মাদকচক্রের মূল পান্ডার নাম এনারুল শেখ। গত জানুয়ারি মাসে এন্টালি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, এই মাদক কারবার চালিয়ে কোটি টাকার বেশি মুনাফা তৈরি করেছে অভিযুক্ত।
সম্প্রতি তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায়, এনারুল একা নয়, এই কাজে তার সঙ্গে জড়িত রয়েছে আরও কয়েকজন। তাদেরকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোয়া থেকে পাকড়াও করা হয় ধৃতদের। এ-বিষয়ে মালদহ জেলার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, শুধুমাত্র প্যাকেটে করে মাদক পাচার করা হচ্ছে এমন নয়। ছোট ছোট পুরিয়া করেও স্থানীয় এলাকাতে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে।
মালদহ জেলা পুলিশের মতে, মাদক তৈরির পর সেটিকে লোকালয়ে বিক্রি করতে কাজ করছে স্কুল-পড়ুয়ারা। বেছে বেছে ১২ থেকে ১৪ বছরের নাবালকদের এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্কুলের ব্যাগে বই-খাতার মধ্যে করেই পাচার হচ্ছে হাজার-হাজার টাকার মাদক। শুধুমাত্র স্কুল পড়ুয়ারাই নয়, এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে সদ্য মা হয়েছেন এমন মহিলাদেরকেও। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে পাচার করার পদ্ধতি একটু আলাদা। বাচ্চার জন্য ব্যবহৃত বেবি ফুডের আড়ালেই পাচার হচ্ছে মাদক। এখানেই শেষ নয়, ব্রাউন সুগার পাচার করলে মিলছে ব্রাউন সুগার। অন্যদিকে হেরোইন পাচার করলে মিলছে হেরোইন। সব মিলিয়ে ক্ষতি হচ্ছে শৈশবের, ক্ষতি হচ্ছে সমাজের। কিন্তু রমরমিয়ে রাজ্যের বুকে এমন মাদক শিল্পের ফাঁদ তৈরি হল কীভাবে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

