AB Live News
গ্যাস-সঙ্কটে দিশেহারা আমজনতা, বাজারে অমিল ইন্ডাকশন

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রের বারুদের গন্ধ এখন সরাসরি ভারতের রান্নাঘরে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে এলপিজি (LPG) হাহাকার। আর এই গ্যাস-সঙ্কট থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন ইলেকট্রিক ইন্ডাকশন ওভেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কলকাতা, দিল্লি, বেঙ্গালুরু বা চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছে ইন্ডাকশন ওভেনের স্টক।
আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (LPG) জোগানে বড়সড় টান পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গাতেই সিলিন্ডার রিফিল বুক করার পর তা পেতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কের কেনাকাটা শুরু হয়েছে। গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে সবাই এখন ঝুঁকছেন বিদ্যুচ্চালিত উনানের দিকে।
দেশের বড় বড় ইলেকট্রনিক্স স্টোর এবং অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে ইন্ডাকশন ওভেনের চাহিদা গত এক সপ্তাহে কয়েক গুণ বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক বছরে এমন হুড়োহুড়ি দেখা যায়নি। চাহিদার চাপে স্টোরে থাকা পুরনো স্টক যেমন শেষ, তেমনই নতুন করে জোগান পেতেও হিমশিম খাচ্ছে কোম্পানিগুলো। অনেক দোকানেই এখন ঝুলছে ‘আউট অফ স্টক’-এর বোর্ড।
জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাব সবথেকে বেশি পড়েছে দক্ষিণ ভারতে। বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের অনেক বড় বড় রেস্তরাঁ এখন গ্যাস সিলিন্ডার না পেয়ে রান্নার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। বেঙ্গালুরুর বহু পিজি (PG) আবাসনে আবার খাবারের মেনু সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। গ্যাস সাশ্রয় করতে যে সব খাবার তৈরিতে বেশি সময় বা জ্বালানি লাগে— যেমন লুচি বা রুটি— সেগুলোর বদলে অন্য খাবারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম এবং সরবরাহের ঘাটতি সরাসরি মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। আপাতত এই সঙ্কট থেকে বাঁচতে একদল মানুষ সঞ্চয়ী হচ্ছেন গ্যাসে, আর অন্য দল মরিয়া হয়ে খুঁজছেন এক টুকরো ইলেকট্রিক কুকটপ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

