AB Live News
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই চিকিৎসক ওষুধ দিচ্ছেন গ্রুপ ডি কর্মী
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়-২ ব্লকের বিজয়গঞ্জ বাজার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের অভাবে গ্রুপ-ডি কর্মী রোগীদের ওষুধ দিচ্ছেন—এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘিরে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
সম্প্রতি বিজয়গঞ্জ বাজার থেকে জয়পুরের দিকে ফেরার পথে একটি শিশু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয় দুই যুবক তাকে কোলে করে নিকটবর্তী বিজয়গঞ্জ বাজার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। অভিযোগ, সেখানে কোনও অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় একজন গ্রুপ-ডি কর্মী শিশুটির প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ওষুধ দেন। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেকেন্ড মেডিক্যাল অফিসার (যিনি সেদিন উপস্থিত ছিলেন) শিশুটিকে পরীক্ষা করে একই ধরনের পরামর্শ দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে ফার্স্ট মেডিক্যাল অফিসার (অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসক) এবং ফার্মাসিস্ট পদ শূন্য রয়েছে। ফলে একজন নার্সিং স্টাফ এবং একজন গ্রুপ-ডি কর্মীই রোগী দেখা, ওষুধ বিতরণ, রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ—সব দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশের একটি ঘরে হোমিওপ্যাথি বিভাগে একজন চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট রোগী দেখলেও, অ্যালোপ্যাথি বিভাগে পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিশাল বিল্ডিং থাকলেও চারপাশে আবর্জনা জমে রয়েছে, রোগী বসার জায়গা ও শৌচালয়ের অবস্থা বেহাল। জ্বর, গ্যাসের সমস্যা বা হালকা অসুস্থতায় আসা রোগীরা বাধ্য হয়ে গ্রুপ-ডি কর্মীর কাছ থেকেই ওষুধ নিচ্ছেন। কেউ কেউ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিচ্ছেন, যাতে কিছুটা উপকার পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করছেন।
এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভাঙড়-২ ব্লকের জিরেনগাছা ব্লক হাসপাতালের অধীনে রয়েছে। সংলগ্ন টোনা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও একই সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ। ভাঙড়-২ ব্লকের স্বাস্থ্য পরিষেবা জেলার ২৯টি ব্লকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। ব্লক হাসপাতালগুলিতেও চিকিৎসকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সঠিকভাবে চালু হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

