AB Live News
ঘাঘরা জলপ্রপাতের পাথুরে খাদ থেকে উদ্ধার প্রীতির দেহ
শিবনাথ দাস : সাত বছরের শিশুপুত্রকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে ঝাড়গ্রামের বিখ্যাত ঘাঘরা জলপ্রপাতের উন্মত্ত খরস্রোতে তলিয়ে যাওয়া পর্যটক প্রীতি দত্তের নিথর দেহ উদ্ধার হল। রবিবার সন্ধ্যায় জলপ্রপাতের একটি দুর্গম ও বিপজ্জনক পাথুরে খাদ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। প্রায় ৩০ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস, চরম নাটকীয় ও অক্লান্ত যৌথ তল্লাশি অভিযানের পর এই মর্মান্তিক ঘটনার যবনিকা পতন হল। বারুইপুরের হরিহরপুর পঞ্চায়েতের বেনিয়াডাঙা বর্ধনপাড়ার বাসিন্দা প্রীতির এই মর্মান্তিক অকালমৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছতেই গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের স্তব্ধতা।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার কলকাতা ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩৬ জনের একটি পর্যটক দলের সাথে পারিবারিক অবকাশ যাপনে ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন প্রীতি দত্ত। শনিবার দুপুরে তিনি তাঁর সাত বছরের পুত্র প্রিয়ঙ্কনকে সাথে নিয়ে ঘাঘরা জলপ্রপাতের পাথর বিছানো মনোরম রূপ দেখতে পৌঁছান। কিন্তু জলপ্রপাতের পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক পাথুরে চত্বরে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময় আচমকা পা পিছলে গভীর জলাশয়ের প্রবল ঘূর্ণিতে পড়ে যায় শিশুটি। চোখের সামনে নিজের কোলের সন্তানকে তলিয়ে যেতে দেখে এক মুহূর্তও দ্বিধা না করে মা হিসেবে প্রাণের মায়াত্যাগ করে খরস্রোতা জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রীতি। স্থানীয় বাসিন্দা ও সহযাত্রীদের তৎপরতায় শিশুটিকে শেষ পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, জলের তীব্র ঘূর্ণি ও অবিশ্বাস্য টানে নিমেষের মধ্যে গভীর খাদের অন্ধকারে তলিয়ে যান প্রীতি। শনিবার দুপুর থেকেই স্থানীয় পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করলেও বিকেলের পর আলো কমে যাওয়া এবং দুর্গম পাথুরে খাতের কারণে রাতে সাময়িক ভাবে উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখতে হয়। এরপর রবিবার সকালে হুগলির আরামবাগ থেকে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) ৩০ জনের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের সঙ্গে পূর্ণ শক্তিতে যোগ দেন সিভিল ডিফেন্স এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীরা। কিন্তু জলপ্রপাতের প্রচণ্ড গর্জন ও ভয়াল ঘূর্ণিস্রোতের কারণে প্রথম দিকে ডুবুরিদের জলে নামানো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্রোতের তীব্রতা কমাতে উপর থেকে কয়েকশো বালির বস্তা ও ভারী বোল্ডার ফেলে জলের স্বাভাবিক ধারাকে বাঁধার চেষ্টা করা হয়। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রচেষ্টায় বিকল্প কৌশলে জলের তীব্র স্রোত অন্য দিকে কিছুটা ঘুরিয়ে দিতেই একটি পাথুরে খাদের গভীরে প্রীতির পা দেখতে পাওয়া যায় এবং সেখান থেকেই নিথর দেহটি উদ্ধার করা হয়।ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা জানান, অত্যন্ত জটিল, ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতির মধ্যে দিনভর অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যার মুখে দেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ছুটির আনন্দঘন মুহূর্ত যে চোখের পলকে এমন এক নিদারুণ ও হৃদয়বিদারক বিষাদে পরিণত হবে, তা এখনও কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিবার-পরিজন ও সহযাত্রীরা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

