AB Live News
বাংলা কার দখলে? মহাসংগ্রামের শেষে বুথফেরত সমীক্ষায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
টানটান উত্তেজনা, প্রবল রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি আর রেকর্ড সৃষ্টিকারী ভোটদানের পর এবার গোটা রাজ্যের নজর বুথফেরত সমীক্ষার দিকে। বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হতেই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষার ফলাফল। অধিকাংশ সমীক্ষাই রাজ্যে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করে ফেলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসও বেশ কিছু সমীক্ষায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে। ফলে ৪ মে চূড়ান্ত গণনার আগে পর্যন্ত বাংলার মসনদ কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চুলচেরা বিশ্লেষণ।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরলেও, এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। ম্যাট্রিজ়ের বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি রাজ্যে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন পেয়ে ক্ষমতার খুব কাছাকাছি বা ক্ষমতা দখল করতে চলেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল ১২৫ থেকে ১৪০টি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই সমীক্ষায় বাম বা কংগ্রেসের খাতা খোলার কোনো আশাই দেখা যাচ্ছে না। চাণক্য স্ট্র্যাটেজির সমীক্ষাও একই সুর গাইছে। তাদের হিসেবে বিজেপি ১৫০ থেকে ১৬০টি আসন পেয়ে অনায়াসেই সরকার গড়তে পারে, আর তৃণমূল থমকে যেতে পারে ১৩০ থেকে ১৪০টি আসনেই।
তবে সব সমীক্ষাই যে বিজেপির পক্ষে কথা বলছে এমনটা নয়। পিপল্স পাল্স এবং জনমত পোল্স-এর মতো সংস্থাগুলো আবার সম্পূর্ণ উল্টো ছবি তুলে ধরেছে। পিপল্স পাল্স-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসন পেয়ে বিপুলভাবে জয়ী হতে পারে, যেখানে বিজেপিকে তারা ৯৫ থেকে ১১০টি আসনের মধ্যে আটকে রেখেছে। জনমত পোল্স-এর সমীক্ষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল আরও শক্তিশালী অবস্থানে, তাদের মতে তৃণমূল ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন পেয়ে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতা ধরে রাখবে। এই সমীক্ষাগুলোতে কংগ্রেস এবং বামেদের সামান্য অস্তিত্বের কথা বলা হলেও, রাজ্যের মূল লড়াই যে দ্বিমুখী তা স্পষ্ট।
পোল ডায়েরি এবং পি-মার্কের সমীক্ষাতেও বিজেপির পালে হাওয়া দেখা যাচ্ছে। পি-মার্কের দাবি অনুযায়ী বিজেপি ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। অন্যদিকে প্রজা পোল তাদের সমীক্ষায় বিজেপিকে একপ্রকার অপ্রতিরোধ্য হিসেবে দেখিয়েছে, যেখানে তারা ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। জেভিসি-র সমীক্ষায় আবার লড়াই সবথেকে তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে; সেখানে বিজেপি ১৩৮ থেকে ১৫৯ এবং তৃণমূল ১৩১ থেকে ১৫২টি আসন পেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, এখানে প্রতিটি আসনের জয়-পরাজয় নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।
এবারের নির্বাচনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অভূতপূর্ব ভোটদানের হার। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নজির গড়েছে। রাজ্যের অনেক জায়গায় ভোটদানের হার ৯০ শতাংশও ছাড়িয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উচ্চ হারের ভোট কার বাক্সে গিয়েছে তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলার ভাগ্য। ভারতের নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই বুথফেরত সমীক্ষা বাস্তবের সাথে মেলেনি, আবার অনেক সময় তা হুবহু মিলে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৪ মে ইভিএম খোলার পর বোঝা যাবে জনতা জনার্দন কার মাথায় রাজতিলক পরালেন। তার আগে পর্যন্ত সমীক্ষার এই টানাপড়েন রাজ্য রাজনীতির পারদকে তুঙ্গে রাখবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

