AB Live News
গান্ধীজয়ন্তীতে বাপুকে শ্রদ্ধার্ঘ্য মোদি ও রাহুলের
আজ, ২ অক্টোবর জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী। এই ঐতিহাসিক দিনটি উপলক্ষে সকাল থেকেই রাজধানী দিল্লি-সহ গোটা দেশজুড়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও নানা গঠনমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এ দিনও সকালে দিল্লির রাজঘাটে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এর কিছু পরেই রাজঘাটে উপস্থিত হয়ে বাপুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। রাজঘাটে শ্রদ্ধা নিবেদনের একাধিক স্থিরচিত্র ও দৃশ্য সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। পাশাপাশি গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বারের উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, হিন্দি ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই মহাত্মা গান্ধীর জীবনদর্শন ও তাঁর আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা সবিস্তার তুলে ধরেছেন তিনি। হিন্দি ভাষার বার্তায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাপুর সমগ্র জীবন সত্য, অহিংসা, অহংকারহীনতা, গভীর করুণা এবং আর্ত মানবতার নিঃস্বার্থ সেবায় উৎসর্গীকৃত ছিল। তাঁর সেই অনন্য জীবনদর্শন আজও মানবজাতিকে সঠিক পথ দেখানোর কাজ করে চলেছে। একই সঙ্গে শান্তি ও সহমর্মিতার বার্তা বহনকারী একটি পবিত্র সংস্কৃত শ্লোক উদ্ধৃত করে তিনি মানবতার চিরন্তন মূল্যবোধ স্মরণ করিয়ে দেন। অন্য দিকে, ইংরেজি বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, গান্ধীর আদর্শ ও শিক্ষা একটি শোষণহীন, আত্মনির্ভর ও উন্নত সমাজ গঠন তথা ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার প্রত্যয়কে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা জোগায়। শুধু লিখিত বক্তব্যই নয়, মহাত্মা গান্ধীর সামগ্রিক জীবন ও কর্মের তাৎপর্য তুলে ধরে একটি বিশেষ তথ্যচিত্রও সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যেখানে তাঁর নিজের নেপথ্যকণ্ঠে গান্ধীর বিশ্বজনীন প্রভাবের কথা স্মরণ করা হয়েছে। মোদি জানান, ক্ষমতার রাজনীতি থেকে শতহস্ত দূরে অবস্থান করেও বাপু কোটি কোটি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছিলেন। তাঁর সেই কালজয়ী স্বদেশি ভাবনা ও স্বনির্ভরতার নীতিকে সম্মান জানিয়ে দেশবাসীকে অন্তত একটি করে খাদি পণ্য কেনার আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী। অন্য দিকে, গান্ধী জয়ন্তীতে বাপুর আপসহীন সংগ্রামের আদর্শকে স্মরণ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি জানান, সমস্ত ধরনের অন্যায়, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে নির্ভীক ভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শিক্ষাই দিয়েছিলেন বাপু। সত্য ও অহিংসাকে দুর্বলতা নয়, বরং পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। এই বিশেষ দিনটিতে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষেও রাজঘাটের পাশাপাশি বিজয়ঘাটে গিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন নেতৃবৃন্দ। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে শ্রদ্ধার বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাপুকে স্মরণ করে পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে তাঁর প্রতি শ্রেষ্ঠ তর্পণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দেশজুড়ে পরিচালিত স্বচ্ছতা অভিযান মহাত্মা গান্ধীর দূরদর্শী ভাবনার সঙ্গেই নিবিড় ভাবে যুক্ত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

