AB Live News
জামিন চেয়ে হাইকোর্টে প্রার্থী মিলন প্রধান
শিবনাথ দাস : আসন্ন নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ঠিক মুখে আইনি জটিলতার গ্যাঁড়াকলে পড়ে অবশেষে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। পুরনো খুনের চেষ্টা ও বেআইনি অস্ত্র মজুত রাখার একাধিক অভিযোগে পুলিশি গ্রেপ্তারের পর তিনি বর্তমানে আদালতের নির্দেশে জেল হেফাজতে রয়েছেন। বুধবার তাঁর জামিনের জরুরি আর্জি জানিয়ে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রার্থীর আইনজীবী মিলন মুখোপাধ্যায়।আদালতে শুনানির সময় প্রার্থীর আইনজীবী সওয়াল করেন যে, তাঁর মক্কেল আসন্ন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে একটি স্বীকৃত জাতীয় দলের মনোনীত প্রার্থী। নিয়ম অনুযায়ী আগামী পাঁচ অক্টোবর পর্যন্ত মিলন প্রধানের জেল হেফাজতের মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে। অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ছয় অক্টোবর নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে পাঁচ তারিখ পর্যন্ত যদি তিনি কারাগারের অন্তরালেই বন্দি থাকেন, তবে তিনি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না এবং তাঁর সাংবিধানিক অধিকার চরম ভাবে ব্যাহত হবে। প্রার্থীর আইনজীবীর বক্তব্য, জামিনের আবেদনের চূড়ান্ত শুনানির জন্য কিছুটা আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হলেও নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার কারণে বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করা হোক। সমস্ত সওয়াল শোনার পর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মিলন প্রধানের আবেদন নথিভুক্ত করার এবং দ্রুত শুনানির অনুমতি প্রদান করেছেন।এর আগে একাধিক পুরনো রাজনৈতিক হিংসার মামলায় নিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি এড়াতে আগাম রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মিলন প্রধান। কিন্তু গত মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ সেই আর্জি খারিজ করে জানিয়ে দেয় যে, এই মুহূর্তে মিলন প্রধানকে কোনও ধরনের অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। সেই ধাক্কার পরেই এই নতুন জামিনের আবেদন করা হল। আদালতে সরকারি কৌঁসুলির পেশ করা তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধারায় মোট এগারোটি মামলা রুজু হয়েছিল। এর মধ্যে বর্তমানে পাঁচটি মামলার জেরে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। বাকি ছয়টি মামলার মধ্যে পাঁচটি পুরনো মামলা পূর্বেই আইনি প্রক্রিয়ায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে এবং একটি মামলায় চার্জশিটে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে কেবল নন্দীগ্রাম নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত খেজুরির দু’টি গুরুতর মামলায় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ নথিভুক্ত ছিল এবং সেই সূত্রে সম্প্রতি তাঁকে কাঁথি মহকুমা আদালতেও হাজির করানো হয়েছিল। ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক দিন আগে কংগ্রেস প্রার্থীর এই আইনি লড়াই এখন নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের সমীকরণকে আরও জটিল ও নাটকীয় করে তুলেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

