Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

কোচবিহারের সার্বিক রূপান্তরে বড় অঙ্কের উন্নয়ন প্যাকেজ ঘোষণা

0 2,331

শিবনাথ দাস : কোচবিহারের সার্বিক ভোলবদলে সরকারি তহবিলের কোনও ঘাটতি রাখা হবে না বলে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলাশাসকের তৈরি করা প্রাথমিক দুই কোটি টাকার বিস্তৃত প্রকল্প রিপোর্টের বাজেট এক ধাক্কায় বাড়িয়ে আরও বৃহত্তর পরিসরে উন্নয়ন পরিকল্পনা রূপায়ণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার কোচবিহারের ঐতিহাসিক মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঐতিহাসিক জনপদের সার্বিক পুনর্গঠন ও দীর্ঘদিনের বিমান চলাচলের অচলাবস্থা কাটানোর পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহার বিমানবন্দর নিয়ে বড় বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ৮ তারিখ কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডুর সঙ্গে ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। সেই চুক্তির মাধ্যমে কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে স্থায়ী ও নিয়মিত বিমান চলাচলের পথ সুগম হবে। নিজের কার্যকালের নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করে তিনি প্রত্যয়ের সুরে বলেন, “২০২৬ সালের ৯ মে আমি শপথ গ্রহণ করেছি। ২০২৭ সালের ৯ মে— এই এক বছরের মেয়াদের মধ্যেই কোচবিহারের মানুষের বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্ন পূরণ করতে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তিনি জানান, ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিতকরণ, বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট প্রস্তুত এবং অর্থ বরাদ্দের কাজ দ্রুততার সঙ্গে শুরু হয়ে গিয়েছে। এমনকি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রকাশিত প্রথম পর্যায়ের সিংহভাগ দরপত্রের কাজ কেবল কোচবিহার জেলার জন্যই নির্দিষ্ট রাখা হয়েছে। পরিকাঠামোগত রূপান্তরের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে দ্রুত পৌঁছয়, সে বিষয়েও আলোকপাত করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের জল জীবন মিশন, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর, অন্নপূর্ণা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাসন যোজনা ও পিএম কিষাণ সম্মান নিধির সুবিধা নির্বিঘ্নে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। পাশাপাশি রাজ্যের নিজস্ব কৃষক বন্ধু প্রকল্পের নথি যাচাইকরণের কাজও অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে এগোনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষকদের কাছে প্রকল্পের আর্থিক সাহায্য পৌঁছতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে। ‘বিশ্ব গণ্ডার দিবস’ উপলক্ষে উত্তরবঙ্গের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি কোচবিহারকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও পরিবেশ পর্যটনের এক সুবিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তরাই ও ডুয়ার্সের বিশ্বখ্যাত একশৃঙ্গী গণ্ডারকে কেন্দ্র করে যেমন পরিবেশ পর্যটন গড়ে উঠেছে, তেমনই কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় কেন্দ্রগুলিকেও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব। সম্প্রতি অসমের মুখ্যমন্ত্রী মধুপুর ধাম সফর করেছেন এবং এদিন তিনি নিজে ঐতিহাসিক মদনমোহন দর্শন করলেন। এই ধর্মীয় সার্কিটকে জাতীয় স্তরে জনপ্রিয় করতে রেল, সড়ক ও বিমান ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের পাশাপাশি উন্নত মানের অতিথিশালা ও হোটেল পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যাতে দার্জিলিংয়ের টাইগার হিল বা ডুয়ার্সের মতো কোচবিহারও পর্যটকদের কাছে সমান আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অতীতে এই জেলায় নিজের উপর ঘটে যাওয়া নানা রাজনৈতিক আক্রমণ এবং মন্দিরের পুরনো অপ্রীতিকর স্মৃতির প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতে যা ঘটেছে তাকে পিছনে ফেলেই প্রশাসনকে ইতিবাচক পথে এগোতে হয়। ঈশ্বরের কৃপা এবং ‘গণদেবতা’ অর্থাৎ সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ আশীর্বাদই তাঁর সব কাজের মূল শক্তি। আগামী রাসপূর্ণিমাতেই তিনি ফের কোচবিহারবাসীর মাঝে উপস্থিত হবেন বলে আশ্বাস দেন।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper