AB Live News
এক বছরে ১,০০০ আরএসএস স্কুল! বাংলার শিক্ষাঙ্গনে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
শ্রীতমা ব্যানার্জী :: শিক্ষার আঙিনায় নতুন এক পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আগামী এক বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলা, পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় অন্তত ১,০০০টি বিদ্যালয় গড়ে তুলতে চায় রাজ্য। এই স্কুলগুলি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের শিক্ষা শাখা বিদ্যাভারতী।কলকাতায় বিদ্যাভারতীর ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষার পাশাপাশি পড়ুয়াদের মধ্যে ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষা’ ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিদ্যাভারতীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে আসে মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রসঙ্গও। তাঁর অভিযোগ, এই দুই জেলায় ‘দেশবিরোধী কার্যকলাপ’ বেশি ঘটে। তাই সেখানে আরও বিদ্যাভারতী স্কুল তৈরির জন্য তিনি সংগঠনকে উদ্যোগী হতে বলেন।
এদিন বক্তব্যে আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে ‘দূষিত’ করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতি বদলে শিক্ষাক্ষেত্রে ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষা’র দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বিদ্যাভারতীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
‘বন্দে মাতরম’ নিয়েও কড়া বার্তা
শুধু নতুন স্কুল তৈরিই নয়, বিদ্যালয়গুলিতে ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাওয়া নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, কোনও স্কুল তা না মানলে সরকারি সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি তিনি দিয়েছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণ, মতাদর্শ এবং জাতীয়তাবাদ—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা দফতর নিয়েও প্রশ্ন
শিক্ষা প্রশাসনের কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা দফতরের অধীনে থাকবে, অথচ আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় অন্য একটি দফতরের অধীনে থাকবে—এমন ব্যবস্থা তিনি মানতে নারাজ।বোর্ড পরীক্ষার কৃতীদের সংবর্ধনার প্রসঙ্গ টেনে সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যে কৃতীদের সংবর্ধনা দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে মুসলিম, জৈন ও বৌদ্ধ পড়ুয়ারাও ছিলেন। পরে সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতর থেকে আলাদা করে ২৭ জন মুসলিম পড়ুয়ার নাম পাঠানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। কেন এমন আলাদা তালিকা পাঠানো হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এক বছরে ১,০০০ স্কুলের লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হয়, আর শিক্ষার সঙ্গে মতাদর্শের এই সমীকরণ বাংলার রাজনীতিতে কতটা নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়—এখন নজর সেদিকেই।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

