Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

মধ্যপ্রদেশে রাজধানী এক্সপ্রেসে বিধ্বংসী আগুন, ভস্মীভূত ২ কামরা

0 398,219,050

 রবিবার ভোররাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে অলৌকিক ভাবে রক্ষা পেলেন রাজধানী এক্সপ্রেসের শত শত যাত্রী। কেরলের তিরুঅনন্তপুরম থেকে দিল্লিগামী ১২৪৩১ হজ়রত নিজ়ামউদ্দিন রাজধানী এক্সপ্রেস মধ্যপ্রদেশের কোটা রেল ডিভিশনের অন্তর্গত লুনি এবং আলট রেলস্টেশনের মাঝে পৌঁছতেই আচমকা একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় আগুন লেগে যায়। চোখের পলকে সেই আগুন পাশের আরেকটি কোচেও ছড়িয়ে পড়ে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে ট্রেনের দুটি কামরা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। তবে রেল কর্মীদের তৎপরতা এবং চালকের সময়োচিত সিদ্ধান্তের জেরে এক চরম বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। দুই কামরার সমস্ত যাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে। কোনও হতাহতের খবর নেই।

রেল প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘড়ির কাঁটায় তখন ভোর সওয়া ৫টা। ট্রেনের অধিকাংশ যাত্রীই তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। ঠিক সেই সময় ১২৪৩১ তিরুঅনন্তপুরম-হজ়রত নিজ়ামউদ্দিন রাজধানী এক্সপ্রেসের বি ১ (B1) কোচে প্রথম আগুন লাগার বিষয়টি নজরে আসে। ট্রেনের পিছন দিকে থাকা গার্ড আচমকাই দেখতে পান ওই কামরাটি থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বেরোচ্ছে। বিপদ বুধতে পেরে তিনি মুহূর্তের মধ্যে লোকো পাইলট বা ট্রেন চালককে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে সতর্ক করেন। ধোঁয়া দেখার পরেই চালক আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে জরুরি ব্রেক কষে ট্রেনটিকে লুনি এবং আলট স্টেশনের মাঝামাঝি একটি ফাঁকা জায়গায় থামিয়ে দেন।

ট্রেন থামতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায় যাত্রীদের মধ্যে। ততক্ষণে বি ১ কোচের আগুন সংলগ্ন আরও একটি কামরায় ছড়িয়ে পড়েছিল। খবর পেয়েই ট্রেনের প্যান্ট্রি কারের কর্মী এবং রেলের রক্ষীবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বি ১ কোচে সেই সময় ৬৮ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের ঘুম থেকে ডেকে তুলে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কামরা থেকে বার করে আনা হয়। যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে রেল কর্মীদের তৎপরতায় সমস্ত যাত্রীকে সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। এর মাঝেই খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনীকে। ঘটনাস্থলে দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন এসে পৌঁছয় এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে কিছুক্ষণের মধ্যেই দুটি কামরা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সঠিক সময়ে যদি আগুন লাগার বিষয়টি গার্ডের নজরে না আসত এবং চালক যদি ট্রেন না থামাতেন, তবে ভারতের রেল ইতিহাসে আরও একটি বড়সড় ও মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে যেতে পারত।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে ছোটেন। আগুন যাতে ট্রেনের বাকি কামরাগুলিতে কোনওভাবেই ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রথমে রেলের ওভারহেড তারের বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর রেলের ইঞ্জিনিয়ার ও উদ্ধারকারী দল জলন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত কামরা দুটিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ট্রেনের বাকি অংশ থেকে কেটে আলাদা করে দেয়। এর ফলে একটি বড়সড় বিস্ফোরণ ও ট্রেনের অন্যান্য অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

কোটা রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রবীন্দ্র লাকড়া সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সমস্ত যাত্রীকে অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। অলৌকিক বিষয় হল, এত বড় অগ্নিকাণ্ডের পরেও কারও কোনও শারীরিক ক্ষতি হয়নি। সকলেই সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কামরার আতঙ্কিত ও বিপর্যস্ত যাত্রীদের সান্ত্বনা দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ট্রেনের অন্য কামরাগুলিতে সাময়িকভাবে বসানোর ব্যবস্থা করা হয়। ট্রেনটিকে ওই অবস্থাতেই কোটা স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, কোটা স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছনোর পর সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা অতিরিক্ত দুটি নতুন কামরা ট্রেনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত কামরার যাত্রীদের সেই নতুন আসনে বসিয়ে তাঁদের মূল গন্তব্য দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা করিয়ে দেওয়া হবে। রেলের তরফে যাত্রীদের খাবার ও পানীয় জলের বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানী এক্সপ্রেসের মতো একটি ভিভিআইপি ট্রেনে কীভাবে এই ধরনের মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা নিয়ে ইতিমিধ্যেই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে কী থেকে এই আগুন লাগল, তা এখনও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। রেলের কারিগরি বিভাগের প্রাথমিক অনুমান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার (এসি) শর্ট সার্কিটের কারণেই হয়তো এই আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে আসল কারণ অনুসন্ধানের জন্য রেলের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে ওই লাইনে কিছুক্ষণের জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হলেও, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে রেল দফতর।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper