Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

উত্তরকন্যায় ফাইল খুলতেই দুর্নীতি ফাঁস, কড়া মন্ত্রী

0 721,453,312

 রাজ্যের শাসনভার পরিবর্তনের পর এবার উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দফতর উত্তরকন্যায় দুর্নীতির বড়সড় কঙ্কালসার রূপ জনসমক্ষে এল। পূর্বতন সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গের মানুষের উন্নয়নের নামে বরাদ্দ হওয়া সরকারি টাকা কীভাবে নয়ছয় করা হয়েছে, তা দেখে স্বয়ং স্তম্ভিত বর্তমান প্রশাসন। বহু ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ বাস্তবে রূপ পায়নি, কেবল ‘কাগজ-কলমে’ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। উত্তরকন্যায় ঝটিকা সফরে গিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল নিজে হাতে খতিয়ে দেখে এমনই মারাত্মক সব গরমিল ও দুর্নীতির হদিশ পেলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। এই সমস্ত দুর্নীতির খতিয়ান সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মন্ত্রী। তড়িঘড়ি দফতরে জরুরি বৈঠক ডেকে একাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত ঠিকাদার সংস্থাকে অবিলম্বে ‘ব্ল্যাক লিস্টেড’ বা কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দিলেন তিনি। একই সঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরে কোনও অবস্থাতেই ঠিকাদার, রাজনৈতিক দাদা কিংবা দালালদের সিন্ডিকেট রাজ আর বরদাস্ত করা হবে না। মন্ত্রীর এই আকস্মিক ও কড়া পদক্ষেপে উত্তরকন্যাসমেত সমগ্র উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক অলিন্দে তীব্র আলোড়ন ও চর্চা শুরু হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার কলকাতা থেকে বিমানে শিলিগুড়িতে পা রাখামাত্রই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সোজা উত্তরকন্যায় পৌঁছে যান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। সেখানে পৌঁছেই তিনি দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে একটি জরুরি ও উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বিগত কয়েক বছরে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে হওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইলের খতিয়ান তলব করেন মন্ত্রী। আধিকারিকদের টেবিল থেকে সেই সমস্ত ফাইল নিজে হাতে নিয়ে একের পর এক পাতা উলটে দেখতে গিয়েই চোখ কপালে ওঠে মন্ত্রীর। তিনি দেখতে পান, খাতায়-কলমে যে সমস্ত রাস্তা, সেতু বা পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে বলে কোটি কোটি টাকার বিল পাস করে দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে তার সিংহভাগ কাজই হয়নি। আর যে সামান্য কিছু কাজ শেষ করা হয়েছে, তাও অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, যা জনসাধারণের ব্যবহারের অযোগ্য। এই চরম আর্থিক অনিয়ম ও বেনিয়ম দেখার পরেই ক্ষুব্ধ মন্ত্রী দফতরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, ওই সমস্ত ভুয়ো এবং নিম্নমানের প্রকল্পের সঙ্গে যে সমস্ত ঠিকাদার বা ঠিকাদার সংস্থা যুক্ত ছিল, তাদের অতি দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে এবং সরকারি নিয়ম মেনে আজীবনের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে। এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়ে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “তৃণমূল সরকারের সময় উত্তরবঙ্গের বুকে যে সমস্ত প্রকল্পের কাজ হয়েছে, তার বেশিরভাগই অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অসঙ্গতিপূর্ণ। আমি আজ প্রাথমিক স্তরে কিছু ফাইল খতিয়ে দেখেছি। তাতেই দুর্নীতির যে ছবি স্পষ্ট হয়েছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। যে সমস্ত প্রভাবশালী ঠিকাদার এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের খুঁজে বের করে ব্ল্যাক লিস্টেড করার জন্য আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি। মানুষের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।”

বৈঠক শেষে আগামী দিনে দফতরের কাজের রূপরেখা স্পষ্ট করে মন্ত্রী জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে শুরু হওয়া দফতরের যে সমস্ত জনকল্যাণমূলক কাজ বর্তমানে মাঝপথে চলছে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে সেগুলো কোনওভাবেই বন্ধ করা হবে না। তবে যে সমস্ত কাজের টেন্ডার হয়ে গেলেও বা শুধু খাতায়-কলমে অনুমোদন মিললেও এখনও পর্যন্ত বাস্তব জমিতে কাজ শুরুই হয়নি, সেই সমস্ত রহস্যজনক ও সন্দেহভাজন প্রকল্পগুলি অবিলম্বে বাতিল করা হবে। পূর্বতন সরকারের আমলের আর্থিক অসঙ্গতি ও দুর্নীতির এক জ্বলন্ত উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “বাম জমানায় মাত্র দেড় কোটি টাকা ব্যয় করে কোচবিহারের যে ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্র ভবন তৈরি করা হয়েছিল, সামান্য সংস্কারের নামে তৃণমূল আমলে তার খরচ দেখানো হয়েছে আকাশছোঁয়া ৮ কোটি টাকা। দেওয়াল চুনকাম আর সামান্য মেরামতির নামে এত বিপুল টাকা কোন জাদুবলে খরচ হল, তা সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার।” নিশীথবাবু দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, নতুন সরকারের আমলে এই ধরনের নয়ছয় কোনওভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। উত্তরকন্যা যে আগের সরকারের মতো একটি নিষ্প্রাণ, আলঙ্কারিক ও উৎসবসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকবে না, সেই স্পষ্ট আভাসও এ দিন দিয়েছেন তিনি। উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক গুরুত্ব বাড়াতে মন্ত্রী বলেন, “উত্তরকন্যাকে পূর্ণ মাত্রায় সচল করা হবে। আমি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলব, যাতে রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট বা মন্ত্রিসভার বৈঠক মাঝেমধ্যে কলকাতার বাইরে এই উত্তরকন্যাতেও আয়োজন করা হয়।”

বিগত সরকারের উত্তরবঙ্গ নীতিকে তুলোধোনা করে নিশীথ প্রামাণিক তীব্র সমালোচনা সুরে জানান, বিগত এক দশকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার উত্তরবঙ্গে নতুন নতুন পর্যটন সার্কিট তৈরি করা এবং উত্তরবঙ্গকে বিশ্বমানের সুইজারল্যান্ড করে তোলার একঝাঁক গালভরা ও মুখরোচক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তব জমিতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উলটে উত্তরবঙ্গকে সামগ্রিকভাবে বঞ্চিত করে বছরের পর বছর এই দফতরের বাজেট বরাদ্দ কমিয়েছে নবান্ন। তবে এবার দিন বদলাতে চলেছে। মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, “নতুন সরকারের আমলে এবার উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। আগে যেভাবে খেয়ালখুশি মতো ও রাজনৈতিক স্বার্থে বেছে বেছে কিছু এলাকায় কাজ হত, সেই পক্ষপাতিত্ব এবার সম্পূর্ণ বন্ধ হবে। এবার থেকে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলাকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে সুষম উন্নয়ন সুনিশ্চিত করা হবে।” মন্ত্রীর এই কড়া মনোভাবের পর দুর্নীতিগ্রস্ত ঠিকাদার মহলে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ এক স্বচ্ছ ও নতুন উত্তরবঙ্গের আশায় বুক বাঁধছেন।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper