Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

বিধ্বংসী ধূলিঝড়, বজ্রপাত এবং প্রবল শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে মৃত্যুর মিছিল উত্তরপ্রদেশে

0 67,452,413

 প্রকৃতির ভয়ঙ্কর রোষে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে উত্তরপ্রদেশ। বুধবার বিকেলে আচমকা ধেয়ে আসা বিধ্বংসী ধূলিঝড়, বজ্রপাত এবং প্রবল শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে গোটা রাজ্যে অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল পাঁচটার পর থেকেই লখনউ সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তন ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং শুরু হয় ঝড়ের তাণ্ডব। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর না থাকলেও, স্থানীয় ভাবে ঘনীভূত হওয়া এই নিম্নচাপের জেরে রাজ্যের একাধিক জেলায় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রয়াগরাজ, যেখানে দেওয়াল ধসে এবং গাছ পড়ে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। এছাড়া বদাউন, বরেলি, প্রতাপগড়, উন্নাও, মথুরা, মির্জাপুর, ফতেহপুর ও সন্ত রবিদাস নগরের মতো জেলাগুলিতেও প্রাণহানির খবর মিলেছে। মৃতদের অধিকাংশই দেওয়াল ধসে বা বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত আহত ৫৩ জনকে স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে ভর্তি করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ফলে প্রশাসনের আশঙ্কা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ঝড়ের দাপটে উত্তরপ্রদেশের জনজীবন সম্পূর্ণ লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে। কয়েক হাজার গাছ উপড়ে পড়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে জাতীয় সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী রাস্তাগুলি। ঝড়ের তীব্রতায় ভেঙে পড়েছে শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি, যার ফলে বিস্তীর্ণ গ্রাম ও শহর এলাকা বর্তমানে অন্ধকারে নিমজ্জিত। মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। শুধু মানুষই নয়, প্রবল শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে অসংখ্য গবাদি পশু। কৃষকদের ওপর নেমে এসেছে চরম দুর্দশা; বিঘা প্রতি ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যা অপূরণীয়। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ৮০টির বেশি বাড়ি সম্পূর্ণ ধসে গিয়েছে এবং কয়েকশো কাঁচা বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে ঝড়ের ভয়াবহতা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ঝোড়ো হাওয়ার টানে এক ব্যক্তি খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়ে বহু দূরে আছড়ে পড়ছেন। এই দৃশ্য দেখে শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা।

এই মহাবিপদ মোকাবিলায় উত্তরপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ রাস্তা থেকে গাছ সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার কাজ চালাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন এবং আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন দুর্গতদের দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য। মৃতদের পরিবারপিছু মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনা বর্তমানে প্রশাসনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে সরকার প্রতিটি পরিবারের পাশে রয়েছে এবং খাদ্য-পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবার কোনও অভাব হতে দেওয়া হবে না। তবে এই বিপর্যয়ের ক্ষত কাটিয়ে রাজ্য আবার কবে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ। প্রয়াগরাজ থেকে লখনউ—সর্বত্রই এখন স্বজন হারানোর হাহাকার।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper