AB Live News
জয়ের কামনায় মন্দিরে মন্দিরে শৌর্য, ফল ঘোষণার আগে বসিরহাটে তুঙ্গে উন্মাদনা
আগামীকাল বাংলার ভাগ্যনির্ধারণী দিন। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক পারদ এখন মধ্যগগনে। এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলের অপেক্ষায় যখন প্রহর গুনছে গোটা রাজ্য, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ এক ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ডক্টর শৌর্য ব্যানার্জি। রাজনৈতিক লড়াই শেষে এখন তিনি আধ্যাত্মিকতার শরণাপন্ন। আজ সকাল থেকেই বসিরহাটের বিভিন্ন প্রাচীন ও জাগ্রত মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে পূজো দিলেন তিনি। আগামীকালের ফলাফলে পদ্ম শিবিরের বিজয় নিশ্চিত করতে এবং বিধানসভার বাসিন্দাদের মঙ্গল কামনায় দিনভর প্রার্থনা সারলেন এই বিজেপি প্রার্থী।
ডক্টর শৌর্য ব্যানার্জির এই মন্দির পরিক্রমার প্রধান আকর্ষণ ছিল সংগ্রামপুরের প্রায় ৬০০ বছরের প্রাচীন দক্ষিণা কালী মন্দির। লোকশ্রুতি অনুযায়ী, এই মন্দিরটি প্রতাপাদিত্য রায়চৌধুরীর আমলে নির্মিত। ইতিহাসের প্রাচীন গরিমা মাখা এই মন্দিরে আজ সকালে ভক্তিভরে পুজো দেন তিনি। কেবল পুজোর ডালি সাজানোই নয়, রীতিমতো ভক্তের আদলে মন্দিরের চাতালে বসে প্রার্থনা করতে দেখা যায় তাঁকে। এই মন্দিরের একটি বিশেষ আচার হলো লাল সুতো দিয়ে ঢিল বেঁধে মানত করা। শৌর্য বাবুও সেই প্রাচীন প্রথা মেনে মন্দিরের পবিত্র চত্বরে লাল সুতো দিয়ে ঢেলা বেঁধে মানত করেন। তাঁর কথায়, এই মানত কেবল তাঁর নিজের জয়ের জন্য নয়, বরং বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার আপামর জনসাধারণের সুখ, সমৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা মানুষ করেছেন, তার সার্থক রূপায়ণের জন্য।
সংগ্রামপুরের পর তিনি বসিরহাটের আরও চারটি বড় কালী মন্দিরে পূজো দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই দুটি মন্দিরে তাঁর অর্চনা সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরেই তাঁকে ঘিরে স্থানীয় মানুষ এবং দলীয় কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। মন্দির থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শৌর্য ব্যানার্জি রাজ্যের শাসক দল ও মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, “মাননীয়া বুঝে গিয়েছেন যে তাঁর পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। পরাজয়ের ভয়ে তিনি এখন তটস্থ। বাংলার মানুষ তৃণমূলের দুঃশাসন থেকে মুক্তি চাইছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ভারতীয় জনতা পার্টি এবার বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাজ্যে সরকার গড়তে চলেছে এবং সেই শুভ শক্তির জয়ের জন্যই তিনি ঈশ্বরের আশীর্বাদ ভিক্ষা করছেন।
বিজেপি প্রার্থীর এই মন্দির দর্শনকে কেন্দ্র করে বসিরহাটের সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কর্মী-সমর্থকদের দাবি, তাঁদের প্রার্থী যেমন শিক্ষিত ও সজ্জন, তেমনই তিনি বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা করেন। অন্যদিকে, এই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল শিবির। তবে কোনো বিতর্কই আজ ডক্টর শৌর্য ব্যানার্জিকে তাঁর সংকল্প থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। সারাদিন ধরে বসিরহাটের অলিগলিতে অবস্থিত জাগ্রত দেবালয়গুলোতে ঘুরে ঘুরে তিনি জনসংযোগের পাশাপাশি নিজের আধ্যাত্মিক কর্তব্য পালন করছেন। আগামীকালের ইভিএমের রায় যা-ই হোক না কেন, গণনার আগের এই শেষ লগ্নে ঈশ্বর ও মানুষের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেই চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য কোমর বাঁধছেন বসিরহাট দক্ষিণের এই বিজেপি প্রার্থী। সব মিলিয়ে, ফল ঘোষণার প্রাক্কালে বসিরহাটের এই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আবহে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

