AB Live News
ডিলিমিটেশন ঘিরে সংসদে রণক্ষেত্র, নারী বন্দনায় মোদী
লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করা এবং মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ থেকে সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন শুরু করল কেন্দ্র। এই অধিবেশনকে ঘিরে শুরুতেই চড়ল রাজনীতির পারদ। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমাজমাধ্যমে নারী বন্দনায় এক স্তোত্র পোস্ট করে লেখেন, “ভারত নারী ক্ষমতায়নের পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত। মা ও বোনেদের সম্মান জানালেই দেশকে সম্মান জানানো হয়।” তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘আবেগী’ বার্তার আড়ালে গভীর রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছে বিরোধী শিবির।
সংসদে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল— এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করার তোড়জোড় শুরু হতেই ফুঁসে উঠেছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। বিরোধীদের মূল আপত্তি আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের প্রক্রিয়া নিয়ে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি তোপ দেগে বলেছেন, “বিজেপির এটি একটি বিপজ্জনক পরিকল্পনা। ২০২৯ সালের নির্বাচনের জন্য সব আসনে নিজেদের সুবিধামতো জালিয়াতি করতেই এই বিল আনা হচ্ছে।” ডিএমকে সুপ্রিমো তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এদিন সকালেই বিলের খসড়া পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দক্ষিণের রাজ্যগুলির আশঙ্কা, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বিন্যাস হলে বিজেপি-শাসিত উত্তর ভারতের শক্তি বাড়বে এবং দাক্ষিণাত্যের রাজ্যগুলি গুরুত্ব হারাবে।
বুধবার রাতেই মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন রাহুল গান্ধী, তেজস্বী যাদব, সুপ্রিয়া সুলে এবং তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষ সহ বিরোধী নেতারা। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, ২০২৩ সালে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাসকে জুড়ে দিয়ে কেন্দ্র আসলে এনআরসি এবং ভোটারদের নাম কাটার চক্রান্ত করছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এর তীব্র বিরোধিতা করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পালটা আসরে নেমেছেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বিরোধীরা বিষয়টির ভুল ব্যাখ্যা করে গুজব ছড়াচ্ছে। কেন্দ্রের দাবি, দ্রুত মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতেই আসন সংখ্যা বৃদ্ধি অনিবার্য। অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিরোধীদের প্রবল হট্টগোল আর সরকারের অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী তিন দিন সংসদের অন্দরে গণতন্ত্রের এক বড়সড় লড়াই হতে চলেছে। বিলটি শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির মাধ্যমে পাশ হলেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে উত্তাল সারা দেশ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

