AB Live News
ভবানীপুরে আশ্রমে হামলা
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ভবানীপুর এলাকায় ভোলাগিরি আশ্রমে অতর্কিত হামলার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আশ্রম কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সাধু-সন্ন্যাসীদের অভিযোগ, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী কোনওরকম উস্কানি ছাড়াই আশ্রমের ভিতরে ঢুকে পড়ে সেখানে অবস্থানরত সাধু-সন্তদের নৃশংসভাবে মারধর করে। একইসঙ্গে আশ্রমের বিভিন্ন সম্পত্তি ও মন্দিরের একটি অংশে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভোলাগিরিশ আশ্রম চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আহত সন্ন্যাসীদের চিৎকার ও আশ্রমের ভাঙা অংশ দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য সাধু-সন্ন্যাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা তৎক্ষণাৎ ভবানীপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অনেকেই আশ্রমের দৈনন্দিন পূজা-অর্চনায় অংশ নেওয়া স্থানীয় মানুষও ছিলেন।
ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের বেলডাঙা শাখার মহারাজ কার্তিক মহারাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বিনাশকালে বুদ্ধি নাশ হয়। সাধু-সন্তদের ওপর এই নৃশংস আঘাত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এটি শুধু একটি আশ্রমের ওপর আক্রমণ নয়, এটি সমগ্র সনাতন ধর্ম ও হিন্দু ঐতিহ্যের ওপর সরাসরি আঘাত। রাজ্যের শাসকদল যদি সাধু-সন্ন্যাসীদের নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে জনগণ নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”
হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও বিরোধী নেতৃত্ব এই ঘটনাকে ‘ধর্ম বনাম অধর্মের লড়াই’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁরা অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে সাধু-সন্ন্যাসী, মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর ক্রমাগত আক্রমণ বেড়ে চলেছে এবং প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। অনেকে এই ঘটনাকে ২০২৬ নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলীয় মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, এটি বিরোধীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। তাঁরা দাবি করেন যে, আশ্রমে কোনও হামলার ঘটনাই ঘটেনি এবং পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করে আনবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভবানীপুর থানার সামনে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। থানার সামনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কির খবরও পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আশ্রম কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীদের সঙ্গে শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের যোগসূত্র রয়েছে এবং পুলিশ এখনও কোনও গ্রেপ্তার করেনি।
ভোলাগিরিশ আশ্রম ভবানীপুরের একটি প্রাচীন ও সম্মানিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে নিয়মিত সাধু-সন্ন্যাসীরা থাকেন এবং স্থানীয় মানুষজন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এই হামলার ঘটনায় আশ্রমের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
এই ঘটনা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি এটিকে তৃণমূলের ‘সনাতন ধর্মবিরোধী’ মানসিকতার প্রমাণ বলে আক্রমণ শানিয়েছে। অন্যদিকে শাসকদল এই অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে ভবানীপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে না যায়। আশ্রম কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

