AB Live News
আরজি করের লিফটে ‘মৃত্যুফাঁদ’, ময়নাতদন্তে হাড়হিম করা তথ্য
চার বছরের সন্তানের ভাঙা হাড়ের চিকিৎসা করাতে এসে নিজেই চিরতরে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লিফটে আটকে প্রাণ হারানো দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (৪০) ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ। পাঁজরের প্রায় সব হাড় গুঁড়িয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস ফেটে যাওয়া— লিফট বিভ্রাটের জেরে এক প্রকার পিষে মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের। হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ ও গাফিলতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফুঁসছে সাধারণ মানুষ।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বীভৎসতার ছবি
শুক্রবার সকালে আসা প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চিকিৎসকরা ‘পলি ট্রমা’-কে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রিপোর্টে জানা গিয়েছে:
অস্থিভঙ্গ: অরূপবাবুর পাঁজরের প্রায় প্রতিটি হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল।
অভ্যন্তরীণ আঘাত: প্রচণ্ড চাপে তাঁর হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস এবং প্লীহা (Spleen) ফেটে যায়। এমনকি অন্ত্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রক্তক্ষরণ: দেহের অভ্যন্তরে সাংঘাতিক রক্তক্ষরণের ফলেই দ্রুত অবস্থার অবনতি ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিফটের যান্ত্রিক গোলযোগের সময় শরীর যেভাবে পিষ্ট হয়েছে, তা কোনও বড়সড় দুর্ঘটনার সমতুল্য।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত শুক্রবারে?
শুক্রবার সকালে নিজের স্ত্রী ও চার বছরের সন্তানকে নিয়ে ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের ৫ তলায় যাচ্ছিলেন অরূপবাবু। ২ নম্বর লিফটে ওঠার পর ৩ তলা পর্যন্ত গিয়ে সেটি হঠাৎ বিকল হয়ে যায় এবং সজোরে আছড়ে পড়ে বেসমেন্টে। দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার পর স্ত্রী ও সন্তানকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, অরূপবাবুকে বের করার সময় লিফটটি ফের আচমকা ওপরের দিকে উঠতে শুরু করে। সেই ঝাঁকুনিতেই লিফট ও দেওয়ালের মাঝে পিষ্ট হন তিনি। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরোতে শুরু করে তাঁর। দ্রুত ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। গত বৃহস্পতিবারই ছিল অরূপবাবুর ৪০তম জন্মদিন, তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।
প্রশাসনের দায় স্বীকার ও তদন্ত
এই ঘটনায় টালা থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। ইতিমধ্যেই লিফটম্যান ও নিরাপত্তা রক্ষীসহ ৫ জনকে তলব করেছে পুলিশ। হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য তথা তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষ ঘটনার দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “পূর্ত ও বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকরা এই দায় এড়াতে পারেন না। রক্ষণাবেক্ষণে নিশ্চিতভাবেই গাফিলতি ছিল।” কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) দীনেশ কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শোক ও ক্ষোভের আবহ
একদিকে জন্মদিনের রেশ কাটতে না কাটতেই অকাল মৃত্যু, অন্যদিকে হাসপাতালের মতো নিরাপদ স্থানে এমন ‘যান্ত্রিক হত্যা’— সব মিলিয়ে আরজি কর চত্বরে ক্ষোভ চরমে। কেন বারবার এই হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, সেই উত্তর খুঁজছেন নিহতের পরিবার ও সাধারণ মানুষ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

