AB Live News
গ্যাসের আকাল, বন্ধের মুখে হাজার হাজার হোটেল, কাঠগড়ায় কেন্দ্র
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল ভারতের সাধারণ মানুষের পাতে। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের শৃঙ্খল ভেঙে পড়ায় ভারতে দেখা দিয়েছে তীব্র বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) সংকট। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, রান্নার জ্বালানি না পেয়ে মঙ্গলবার থেকে বাণিজ্য নগরী মুম্বইয়ের অন্তত ২০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তরাঁ অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝাঁপ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই পথে হাঁটছে বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের কয়েক হাজার ছোট-বড় হোটেল।
যুদ্ধের দোহাই দিয়ে গত কয়েক দিনে রান্নার গ্যাসের দাম একধাক্কায় ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে। সিলিন্ডার প্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ১১৫ টাকা। হোটেল মালিকদের অভিযোগ, চড়া দাম দিয়েও বাজারে পর্যাপ্ত বাণিজ্যিক গ্যাস মিলছে না। ডিলারদের কাছে হাহাকার করেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাঁদের। বেঙ্গালুরু হোটেল অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, “জোগান স্বাভাবিক না হলে ব্যবসা চালানো অসম্ভব। মঙ্গলবার থেকে শহরের অধিকাংশ মাঝারি ও ছোট হোটেল বন্ধ থাকবে।”
বিপর্যয়ের মুখে মেট্রো শহরগুলি
মুম্বই: মহানগরের অন্তত ২০ শতাংশ হোটেলের ঝাঁপ আজ থেকে বন্ধ। এর ফলে কয়েক লক্ষ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মী কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কায়।
বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই: দক্ষিণের এই দুই শহরেও একই ছবি। ক্যাফেটেরিয়া থেকে শুরু করে বড় রেস্তরাঁ—গ্যাসের অভাবে ধুঁকছে সব পক্ষই।
কলকাতা: পূর্ব ভারতেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, মজুত গ্যাস ফুরিয়ে গেলেই তাঁরাও বন্ধের পথে হাঁটবেন।
সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার তেল শোধনাগারগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিলেও তাতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, “যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কেন এই পদক্ষেপ? আগে থেকে কেন বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি?” মোদি সরকারের ‘ভিশন’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে রেস্তরাঁ মালিকরা বলছেন, অবিলম্বে ভর্তুকি মূল্যে গ্যাস সরবরাহ না করলে এই শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
হোটেল বন্ধ হওয়ার অর্থ কেবল ব্যবসায়িক ক্ষতি নয়, এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। যারা প্রতিদিন কাজের প্রয়োজনে বাইরে খাওয়া-দাওয়া করেন, তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। অন্যদিকে, বাড়িতে রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি মধ্যবিত্তের রান্নাঘরেও কার্যত ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়েছে।
সরকার শেষ পর্যন্ত কোনও জাদুকরী সমাধান বের করতে পারে কি না, নাকি এই গ্যাস সংকট ভারতকে এক চরম অর্থনৈতিক অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দেয়, এখন সেটাই দেখার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

