Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর

এল নিনোর ছায়ায় বাড়ছে তাপমাত্রা আগামী সপ্তাহে ৩০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে কলকাতা, বৃষ্টির ঘাটতির আশঙ্কা

0 679,981

শীতের মৃদু আমেজ ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে। দিন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে পৌঁছে যেতে পারে। বর্তমানে শহরে রাতের তাপমাত্রা ১৬-১৭ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করলেও সকালের হালকা শীত দ্রুতই উধাও হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গে আপাতত ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।
তবে শুধুই মৌসুমি পরিবর্তন নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে বৃহত্তর জলবায়ুগত প্রভাব। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জলপ্রবাহ-নির্ভর আবহাওয়া চক্র এল নিনো সক্রিয় থাকায় ভারতে গরমের প্রকোপ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বর্ষার বৃষ্টিপাতেও।

কী এই এল নিনো, কেন বাড়ে গরম?
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায়, এল নিনো হল নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব ও মধ্য অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ার একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। সাধারণত এই উষ্ণতা বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটায়। ভারতীয় উপমহাদেশে এর প্রভাব পড়ে মূলত মৌসুমি বায়ুর শক্তি ও বৃষ্টিপাতের উপর।
পরিসংখ্যান বলছে, অতীতে শক্তিশালী এল নিনো বছরের সঙ্গে ভারতের কম বৃষ্টিপাত ও তীব্র গরমের সরাসরি সম্পর্ক লক্ষ্য করা গেছে। সমুদ্রের উষ্ণতা বেড়ে গেলে বায়ুচাপের তারতম্য ঘটে, যার ফলে মৌসুমি বায়ুর প্রবাহ দুর্বল হয়। এতে বর্ষাকালে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হয় এবং গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা বাড়ে।

পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাব
এদিকে উত্তর-পশ্চিম ভারতের পার্বত্য অঞ্চলে একাধিক পশ্চিমি ঝঞ্ঝা প্রবেশ করেছে। শুক্রবার একটি সক্রিয় পশ্চিমি ঝঞ্ঝা ঢোকার পর সোমবার আরও একটি সিস্টেম প্রবেশ করতে পারে বলে পূর্বাভাস। এই ঝঞ্ঝাগুলি ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে।
বিজ্ঞানসম্মতভাবে, পশ্চিমি ঝঞ্ঝা মূলত ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট নিম্নচাপ ব্যবস্থা, যা পশ্চিম দিক থেকে ভারতে প্রবেশ করে। শীতকালে এই সিস্টেম হিমালয় ও উত্তর ভারতে বৃষ্টি ও তুষারপাত ঘটায়। কিন্তু বর্তমানে ধারাবাহিক পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তুরে ঠান্ডা হাওয়ার প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ফলে দক্ষিণবঙ্গে শীতের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে এবং তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে।

দক্ষিণবঙ্গে উষ্ণতার ঊর্ধ্বগতি
কলকাতায় আগামী সপ্তাহে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০–৩১ ডিগ্রি ছুঁতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় আপাতত অস্বস্তিকর গরম না হলেও মার্চের শুরু থেকেই তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞেরা।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও একই প্রবণতা দেখা যাবে। শুষ্ক আবহাওয়া ও রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশ তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা নেবে।

উত্তরবঙ্গেও বাড়ছে পারদ
উত্তরবঙ্গের সমতল জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকবে বলে পূর্বাভাস। পাহাড়ি এলাকায়, বিশেষত দার্জিলিং-এ তাপমাত্রা ৫ থেকে ৭ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। যদিও সেখানে এখনও শীতের আমেজ বজায় রয়েছে, তবুও ধীরে ধীরে পারদের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

খরার আশঙ্কা ও কৃষিক্ষেত্রে প্রভাব
এল নিনোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কৃষি ও জলসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। যদি বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়, তবে খরার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। জলাধার ও ভূগর্ভস্থ জলের স্তর কমে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন থেকেই জল সংরক্ষণ ও তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। শহরাঞ্চলে সবুজায়ন বৃদ্ধি, জলাশয় রক্ষা এবং গ্রামাঞ্চলে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন—এই সব পদক্ষেপ ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
আগাম সতর্কতার বার্তা
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। এল নিনোর তীব্রতা ও পশ্চিমি ঝঞ্ঝার গতিবিধি আগামী কয়েক মাসের আবহাওয়ার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
শীত বিদায় নিচ্ছে—এ কথা এখন নিশ্চিত। কিন্তু তার সঙ্গে যে দীর্ঘ ও তীব্র গ্রীষ্মের সম্ভাবনাও এগিয়ে আসছে, সেই বার্তাই দিচ্ছে প্রকৃতি। শহর ও গ্রাম—উভয় ক্ষেত্রেই তাই আগাম প্রস্তুতির ডাক দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper