AB Live News
জনগণমন’-র আগে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’, জাতীয় গীতি ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

জাতীয় রাজনীতিতে এবার ‘জাতীয় সঙ্গীত’ বনাম ‘জাতীয় গান’-এর লড়াই। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা এক নজিরবিহীন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এখন থেকে যে কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গাওয়ার ঠিক আগেই গাইতে হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’। শুধু তাই নয়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সৃষ্ট এই গানের পরিবেশন শৈলী ও সময়সীমা নিয়েও নির্দিষ্ট বিধিমালা তৈরি করে দিয়েছে অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রক। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে ‘রবীন্দ্রনাথকে খাটো করার চেষ্টা’ ও ‘বিভাজনের রাজনীতি’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল ও কংগ্রেস। পাল্টা জবাবে বিজেপি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ আদতে ‘ইতিহাসের বিকৃতি সংশোধন’।
১৯০ সেকেন্ডের বিধি ও কড়া নির্দেশিকা
কেন্দ্রের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’-এর নির্দিষ্ট ছ’টি স্তবক মোট ১৯০ সেকেন্ড বা ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডে পরিবেশন করতে হবে। কোন কোন ক্ষেত্রে এই গান গাওয়া বাধ্যতামূলক, তার একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছে:
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময়।
রাষ্ট্রপতির আগমন ও প্রস্থানের মুহূর্তে এবং জাতির উদ্দেশে তাঁর ভাষণের আগে ও পরে।
রাজ্যপাল ও উপ-রাজ্যপালদের সরকারি অনুষ্ঠানে।
নাগরিক সম্মান বা রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে।
সামরিক কুচকাওয়াজে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের সময়।
‘রবীন্দ্রনাথকে খাটো করা হচ্ছে’: ক্ষুব্ধ তৃণমূল
রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস মনে করছে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাঙালির আবেগ পেতে এই চাল চেলেছে বিজেপি। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর মতে, “বঙ্কিমচন্দ্রের গরিমা বাড়াতে আমাদের আপত্তি নেই, কিন্তু তা করতে গিয়ে কৌশলে রবীন্দ্রনাথকে ছোট করা হচ্ছে। হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলি রবীন্দ্রনাথের ধর্মনিরপেক্ষতাকে সহ্য করতে পারে না বলেই এই প্রচেষ্টা।” মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, “একবার লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। সম্ভবত সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতেই এই নির্দেশিকার অবতারণা।”

‘বিভাজনের কৌশল’, সরব প্রিয়ঙ্কা-অধীর
কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই নির্দেশিকাকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করা হয়েছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী মনে করেন, বাংলার ভোটের দিকে তাকিয়েই নম্বর বাড়াতে চাইছে মোদী সরকার। অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “বিজেপি তাদের দলীয় কর্মসূচি চাপিয়ে দিতে চাইছে। এর কোনও প্রয়োজন ছিল না। এটি আদতে সমাজকে বিভক্ত করার একটি কৌশল।”
‘ইতিহাসের নিষ্পত্তি’: সাফাই বিজেপির
বিজেপি অবশ্য সমস্ত সমালোচনা উড়িয়ে দিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এতদিন কংগ্রেস ও সমমনস্ক দলগুলি ইতিহাসকে বিকৃত করে জাতীয় গানের গুরুত্ব কমিয়ে রেখেছিল। এই নির্দেশিকার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সেই বিতর্কের অবসান ঘটানো হল এবং জাতীয় গানকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হল।

বঙ্কিম-রবির সেতুবন্ধন ও বিতর্ক
ইতিহাস বলছে, ১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র ‘বন্দে মাতরম’ রচনা করেন, যা পরে ১৮৮২ সালে তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে স্থান পায়। ১৮৯৬ সালে জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে এই গানে প্রথম সুরারোপ করে গেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং। ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান মন্ত্র হয়ে ওঠা এই গানটি সংবিধানে জাতীয় সঙ্গীতের সমমর্যাদা পেলেও, তার নির্দিষ্ট গায়কী বিধি এতদিন নির্ধারিত ছিল না। ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে সেই ‘বন্দে মাতরম’ ঘিরেই এখন আবর্তিত হচ্ছে বাংলার রাজনীতি
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

