AB Live News
বারাকপুরে পদ্ম-ব্রিগেড: লক্ষ্য নবান্ন প্রার্থী তালিকায় অর্জুন-কৌস্তভ ম্যাজিক
ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা আসনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে গত কয়েক বছরে এখানকার ভোটারদের মানসিকতায় বড়সড় বদল এসেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ আসনেই তৃণমূল কংগ্রেসের দাপট দেখা গিয়েছিল এবং ভাটপাড়া বাদে বাকি সবক’টি আসনেই ঘাসফুল শিবির জয়ী হয়েছিল। ভাটপাড়া আসনে অর্জুন-পুত্র পবন সিং বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে পদ্মশিবিরের মান রক্ষা করেছিলেন, অন্যদিকে জগদ্দল, নোয়াপাড়া এবং বীজপুরের মতো আসনগুলোতে তৃণমূল প্রার্থীরা বেশ ভালো ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে চিত্রটি বেশ কিছুটা বদলে যায় যখন ব্যারাকপুর লোকসভা থেকে তৃণমূলের পার্থ ভৌমিক জয়ী হন ঠিকই, কিন্তু বিধানসভা ভিত্তিক ফলের নিরিখে দেখা যায় যে অর্জুন সিংয়ের ব্যক্তিগত প্রভাব এবং বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক বেশ কিছু পকেটে শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে নৈহাটি এবং আমডাঙার মতো এলাকায় যেখানে আগে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, সেখানেও বিজেপি নিজেদের ভোট শতাংশ অনেকটাই বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৬-এর আসন্ন নির্বাচনে লড়াইটা আরও কঠিন হতে চলেছে কারণ এবার বিজেপি অর্জুন সিংকে স্বয়ং বিধানসভা নির্বাচনে নামিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিতে চাইছে। অতীতের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে বীজপুরে যেখানে মুকুল রায়ের প্রভাবে একসময় তৃণমূল শক্তিশালী ছিল, সেখানে এখন তরুণ প্রজন্মের ভোটাররা নতুন মুখ খুঁজছেন। আবার নোয়াপাড়ায় যেখানে বামেদের একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ক ছিল, সেখানে সেই ভোট কোন দিকে যায় তার ওপরেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে। সামগ্রিকভাবে গত পাঁচটি নির্বাচনের ট্রেন্ড বলছে যে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের শক্তিশালী সংগঠনের বিপরীতে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী আবেগ এবং শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগানোর কৌশল ভোট কাটাকাটির সমীকরণকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে যেখানে প্রত্যেকটি ভোটই নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর editor , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব editor হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

