AB Live News
তৃণমূলে কোয়েল: ‘ব্যক্তি হিসেবে পছন্দ, কিন্তু শুভেচ্ছা জানাতে পারব না’, সোজাসাপ্টা শ্রীলেখা
টলিউড থেকে সংসদ— বিনোদন জগতের নক্ষত্ররা রাজনীতির ময়দানে নামবেন, এটা বঙ্গে নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই তালিকায় যখন কোয়েল মল্লিকের মতো ‘বিতর্কহীন’ ভাবমূর্তির অভিনেত্রীর নাম যুক্ত হয়, তখন তা নিয়ে শোরগোল পড়া স্বাভাবিক। সোমবারই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার শংসাপত্র গ্রহণ করেছেন কোয়েল। আর তাঁর এই নতুন সফর নিয়েই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন টলিপাড়ার স্পষ্টবক্তা ও বামমনস্ক হিসেবে পরিচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
কোয়েলের নতুন ইনিংস ও শংসাপত্র গ্রহণ
গত ৫ মার্চ বিধানসভায় রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। সোমবার, ৯ মার্চ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর জয়ের শংসাপত্র হাতে পান। এই নতুন দায়িত্ব নিয়ে কোয়েল বলেন, “অসাধারণ লাগছে। এটা একটা বিশাল বড় দায়িত্ব। সকলের আশীর্বাদ চাই যাতে মানুষের উপকারে লাগতে পারি।” তবে কোয়েলের এই রাজনৈতিক পদক্ষেপে তাঁর অনেক অনুরাগীই খুশি হতে পারেননি। নেটিজেনদের একাংশের মতে, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কোয়েলের রাজনীতির ‘কালিমালিপ্ত’ আঙিনায় পা না রাখলেই ভালো হত।
শ্রীলেখার ‘মন থেকে শুভেচ্ছা’ না জানানো
রাজনীতিতে কোয়েলের অভিষেক নিয়ে কী ভাবছেন শ্রীলেখা মিত্র? এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলেখা জানান, কোয়েলের ‘দেশের সেবা’ করার ইচ্ছাকে তিনি সম্মান করেন এবং তা প্রশংসনীয়। কিন্তু শুভেচ্ছা জানানোর ক্ষেত্রে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন। শ্রীলেখা বলেন—
“আমি আসলে তৃণমূল সাপোর্টার নই তো, তাই শুভেচ্ছাটা ঠিক মন থেকে জানাতে পারব না। ওকে এমনি ব্যক্তি হিসেবে পছন্দ করি। রঞ্জিতকাকুর সঙ্গে কাজ করেছি, ওদের পরিবারের সঙ্গে একটা সময় খুব সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু ও যে দলে যোগ দিয়েছে, তার কারণে কোয়েলকে মন থেকে শুভেচ্ছা জানাতে পারছি না।”
শ্রীলেখা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রঞ্জিত মল্লিকের পরিবারের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক বরাবরই মধুর। এমনকি কোয়েলকেও তিনি ব্যক্তি হিসেবে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করেন। কিন্তু যে রাজনৈতিক শিবিরের হয়ে কোয়েল সাংসদ হয়েছেন, সেই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে শ্রীলেখার আদর্শগত বিরোধ প্রবল। সেই কারণেই ব্যক্তিগত সম্পর্ককে একপাশে রেখে নিজের রাজনৈতিক সততা বজায় রাখলেন তিনি।
কোয়েলের মতো শান্ত ও বিতর্কহীন নায়িকার হঠাৎ রাজনীতিতে আসা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে লিখছেন, “কোয়েল আমাদের কাছে আবেগের জায়গা, তাঁকে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক রঙে দেখতে চাইনি।” আবার অনেকে বলছেন, কোয়েলের মতো মার্জিত মানুষ রাজনীতিতে এলে আখেরে সমাজেরই মঙ্গল। তবে আপাতত কোয়েল এবং শ্রীলেখার এই অবস্থান নিয়ে সরগরম স্টুডিও পাড়া।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

