AB Live News
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন, জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। ৮৬ বছর বয়সী খামেনেই তেহরানে তাঁর কার্যালয়ে ইজরায়েলি বিমানবাহিনীর নির্ভুল হামলায় প্রাণ হারান। ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে এবং দেশজুড়ে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
এই হামলার পরপরই তেহরান পালটা আক্রমণ শুরু করেছে। ইরান ইজরায়েল, আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলির ওপর ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দ্বিতীয় দিনেও হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই হত্যাকে “মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা” বলে অভিহিত করেছেন এবং প্রতিশোধের অধিকার দাবি করেছেন।
এদিকে ভারতে এই ঘটনার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার রাতে দিল্লিতে ফিরে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা পরিষদের (ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি বা সিসিএস) জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। প্রায় রাত সাড়ে ন’টায় দিল্লিতে অবতরণের পর তিনি এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। সরকারি সূত্রের খবর, বৈঠকে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধার অভিযান, যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া আকাশপথে প্রবাসীদের ফেরানোর চ্যালেঞ্জ এবং ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি সম্প্রতি ইজরায়েল সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন। তাঁর সফরের পরপরই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানে হামলা চালান এবং আমেরিকাও যোগ দেয়। এই সময়সারণী নিয়ে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলি মোদি সরকারের কটাক্ষ করছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভারতের অবস্থান সবসময় শান্তি ও সংযমের পক্ষে।
ইরান, ইজরায়েল, লেবানন, সিরিয়া, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে হাজার হাজার ভারতীয় প্রবাসী আটকে পড়েছেন। যুদ্ধের কারণে বহু দেশ আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। মিসাইল ও ড্রোনের আক্রমণের মধ্যে বিমান চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে তাঁদের দেশে ফেরানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সিসিএস বৈঠকে এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি গুজরাট, রাজস্থান, পুদুচেরি ও তামিলনাড়ু সফর শেষ করে রবিবার রাত সাড়ে ন’টার দিকে দিল্লিতে ফিরবেন। ফিরেই তিনি এই জরুরি বৈঠকে যোগ দেবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনেইয়ের মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, তা নিয়ে এখনই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই সংকট ভারতের জন্য কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তেল সরবরাহ, প্রবাসী নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রচেষ্টায় ভারতের ভূমিকা এখন পরীক্ষার মুখে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

