AB Live News
সমকামী অধিকারের লড়াই থেকে সংসদের পথে তৃণমূলের মেনকা

ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী থাকতে চলেছে দেশ। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী-র মনোনয়ন শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। বরং সামাজিক স্বীকৃতির এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। জয়ী হলে তিনিই হবেন দেশের প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী সাংসদ। যা ভারতীয় গণতন্ত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
আইনের অঙ্গনে মেনকা গুরুস্বামী সুপরিচিত নাম। ছাত্রজীবন থেকেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ন্যাশনাল ল স্কুল থেকে শুরু করে হার্ভার্ড ল স্কুল এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্বের প্রথম সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর শিক্ষাজীবন কেটেছে। সুপ্রিম কোর্টে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সওয়াল করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দক্ষ ও দৃঢ়চেতা আইনজীবী হিসেবে।
ছত্তিশগড়ে মাওবাদী দমনে গঠিত ‘সলওয়া জুড়ুম’-এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই, মণিপুরে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা হত্যার অভিযোগে ‘অ্যামিকাস কিউরি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন কিংবা অগস্ত ওয়েস্টল্যান্ড ভিভিআইপি কপ্টার মামলায় প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান এস পি ত্যাগীর পক্ষে সওয়াল, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর আইনি দক্ষতা আলোচনায় এসেছে। তবে জাতীয় স্তরে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পান ২০১৮ সালে। সুপ্রিম কোর্টে ৩৭৭ ধারা বাতিলের মামলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেই ঐতিহাসিক রায়ে ভারতে সমকামিতা অপরাধের তালিকা থেকে বাদ পড়ে। মেনকা সেই রায়কে শুধু আইনি সাফল্য নয়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক মুক্তির জয় হিসেবেও দেখেছিলেন।
সম্প্রতি তৃণমূলের করা আইপ্যাক মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে তাঁর যুক্তি ও আত্মবিশ্বাস আবারও শিরোনামে আসে। আদালতে তর্ক–বিতর্কেও তিনি সমান স্বচ্ছন্দ। যা তাঁর দৃঢ় অবস্থানের পরিচায়ক।
তাঁর বাবা মোহন গুরুস্বামী বিজেপির প্রাক্তন কৌশলী এবং অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা-র বিশেষ উপদেষ্টা ছিলেন। তবে পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে মেনকা বরাবরই নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। ব্যক্তিজীবনেও তিনি স্পষ্ট ও সাহসী। দীর্ঘদিনের সঙ্গী অরুন্ধতী কাটজু-র সঙ্গে ২০১৯ সালে প্রকাশ্যে আসেন সমকামী যুগল হিসেবে। সমকামী অধিকারের লড়াইয়ে তাঁর অবস্থান ছিল সুস্পষ্ট ও নির্ভীক।
এবার সেই মেনকা গুরুস্বামী সংসদের উচ্চকক্ষে যাওয়ার দোরগোড়ায়। তাঁর প্রার্থিতা কেবল একটি রাজনৈতিক মনোনয়ন নয়। এটি সমতার দাবিতে দীর্ঘ সংগ্রামের এক প্রতীকী স্বীকৃতি। ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনার সম্ভাবনা! তবে এখন শুধু। সময়ের অপেক্ষা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

