AB Live News
পাঠ্যক্রমে সুকান্তের কবিতা ফেরানোর জোরালো দাবি
শিবনাথ দাস :মনের গভীর অন্ধকারে তোমার সৃষ্টিরা থাকে জেগে…!’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উদ্দেশ করে এই কালজয়ী পঙ্ক্তি লিখেছিলেন কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার অনন্য কণ্ঠস্বর হিসেবে সুকান্তের অবদান সর্বজনবিদিত। তবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ভাবে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের সাধারণ স্কুল পাঠ্যক্রম থেকে কার্যত নির্বাসিত হয়ে রয়েছেন এই মহান কবি। চলতি বছর তাঁর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্যের অমর সাহিত্যকীর্তিকে পুনরায় বিদ্যালয়ের বাংলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার জোরদার দাবি তুলল বিশিষ্ট লেখক, শিক্ষাবিদ ও শিল্পী সমাজ। এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপের আর্জি জানিয়ে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক-শিল্পী সঙ্ঘ। বর্তমানে রাজ্যের নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে সুকান্ত ভট্টাচার্যের অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ আর পড়ানো হয় না। একই ভাবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সিলেবাস থেকেও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে তাঁর অন্যতম বিখ্যাত কবিতা ‘আঠেরো বছর বয়স’। সংগঠনের অভিযোগ, অতীতে নিয়মিত পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে যে কবির সঙ্গে শৈশবেই নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটত, সিলেবাস পরিবর্তনের ফলে সেই সুযোগ থেকে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছে। ২০১৪ সালে তৃণমূল সরকারের আমলে সিলেবাস সংস্কারের অজুহাতে সুকান্তের একাধিক লেখা বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে ২০২৪ সালে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হলেও কবিকে তাঁর প্রাপ্য জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।লেখক-শিল্পী সঙ্ঘের রাজ্য সভাপতি পবিত্র সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য, পাঠ্যক্রমে সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং তা ছাত্রছাত্রীদের বৌদ্ধিক ও মানবিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। আগের সরকারের আমলে ভুলবশত বাদ পড়া এই লেখাগুলি অবিলম্বে বর্তমান প্রশাসনের পুনর্বিবেচনা করা উচিত। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রজত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সুকান্ত বাংলা সাহিত্যের এক অবিচ্ছেদ্য সম্পদ। নতুন প্রজন্ম যাতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, তারুণ্যের উদ্দীপনা এবং গভীর দেশপ্রেমের ভাষা শিখতে পারে, তার জন্যই সুকান্তের সৃষ্টিকে দ্রুত ক্লাসরুমে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

