AB Live News
স্কুলের দেওয়ালে বিদেশি নেতাদের ছবি নিয়ে বিতর্ক
শিবনাথ দাস : দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়া অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে কার্ল মার্কস, মাও সে তুং-সহ একাধিক বিদেশি বামপন্থী নেতার প্রতিকৃতি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঢাকুরিয়ার লেক ভিউ হাইস্কুলের শিক্ষক কক্ষ এবং প্রধান করিডরে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই সমস্ত ছবি টাঙানো ছিল। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সহযোগী শিক্ষক সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ’-এর এক প্রতিনিধি দল বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভারতীয় শিক্ষাঙ্গনে বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি রাখা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং তা অবিলম্বে সরানোর জোরালো দাবি তোলে। সংগঠনের সদস্যরা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। তাঁদের বক্তব্য, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাও সে তুং, আর্নেস্তো চে গুয়েভারা, জোসেফ স্ট্যালিন কিংবা ভেনিজুয়েলার প্রাক্তন শাসক হুগো সাভেজের মতো চরম রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের ছবি রাখা ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কোনওভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংগঠনের কলকাতা জেলা সভাপতি প্রদীপ পালের অভিযোগ, যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশের রূপকার ড. বি আর আম্বেদকর, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আব্দুল কালাম, বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু কিংবা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর মতো মনীষীদের প্রতিকৃতি দেখা যায় না, সেখানে বিদেশি মতাদর্শের নেতাদের স্থান পাওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। প্রায় কুড়ি বছর ধরে ছাত্রছাত্রীদের মনে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারণা চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছিল কি না, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, চলতি বছরের মে মাসের শেষে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন এবং বহু বছর ধরে বিদ্যালয়ে এই ছবিগুলি টাঙানো ছিল। পূর্বে কখনও কোনও মহল থেকে এই নিয়ে আপত্তি ওঠেনি। তবে বর্তমান অভিযোগের যৌক্তিকতা বিবেচনা করে আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্ত বিতর্কিত ছবি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, সেই স্থানে ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় স্তরের বরেণ্য মনীষীদের ছবি যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে স্থাপন করা হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

